মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা আইএমএফের

মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ বিস্তৃত অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। ২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার পর এবারই প্রথম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আইএমএফের সর্বশেষ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের ফলে আগের সব অর্জন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। আগের পূর্বাভাসগুলোর তুলনায় এটি প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কম। সম্প্রতি আইএমএফের আঞ্চলিক পরিচালক জিহাদ আজুর জানান, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এত বড় অংকে কমিয়ে আনা একটি বিরল ঘটনা। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা কত দ্রুত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে, এ সংশোধন তারই প্রতিফলন।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকে, তবে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। আইএমএফের সহকারী পরিচালক রবার্তো কার্দারেলি জানান, তারা আশা করেছিলেন এ সংঘাত স্বল্পস্থায়ী হবে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি দিন দিন প্রতিকূল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কাতারসহ বেশকিছু দেশ অবকাঠামো ও গ্যাস রফতানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে। অন্যদিকে মিসর, জর্ডান ও পাকিস্তানের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলো ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় তীব্র চাপের মুখে রয়েছে।

ইয়েমেন ও সুদানের মতো দেশগুলোয় খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফ দেশগুলোকে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রেখে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে কেবল এ অঞ্চল নয়, বরং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিও বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আরও